নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা রোডে খালাতো বোনের সাথে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই বাবা ও ছোট ভাই হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বড় ছেলে। রোববার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইফুর ফাইসন্স রোডের পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা ক্যাজুয়াল মেশিন অপারেটর ছিলেন সাইফুর রহমান সোহান। আপন খালাতো বোনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এমনকি পারিবারিকভাবে দুজনের বিয়ের আলোচনা চলছিল। এরমধ্যে ছোট ভাই ওই খালাতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। দুজনে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে। বয়সের চেয়ে ৮-১০ বছরের বড় খালাতো বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় সাকিবকে বারণ করেন সোহান। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের মধ্যে শনিবার রাতে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১১টার পরে সাইফুর সাকিবের হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। পরে ব্লেড দিয়ে সাকিবের হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। খাট থেকে নিচে নামিয়ে সাকিবের হাত-পায়ের বাধন খুলে দেয়। একপর্যায়ে পাশের কক্ষে থাকা তাদের বাবা সোহেল রানা (নেশাগ্রস্ত) অবস্থায় হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলায় পরিস্থিতি খারাপ হবে আঁচ করতে পরে তাকে ধরে নিয়ে বনমালা রেললাইনের পাশে বসিয়ে রাখে। নেশার ঘোরে তিনি সরে যেতে না পরায় ওই লাইনে চলাচলরত একটি ট্রেনের ধাক্কায় পাশে ছিটকে পড়ে তিনি মারা যান।
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সোহানকে সোমবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠিয়ে।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুর রহমান সোহান। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত পাঠানো হয়েছে।